An-Nisa
The Women
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ
হে মানব জাতি ! তোমরা তোমাদের রব সম্পর্কে সতর্ক হও, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র নফস থেকে সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্য থেকেই তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং সেই দুটি (নাফস্) থেকে অসংখ্য পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা সেই আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করো, যে আল্লাহর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে (যার যার পাওনা/হক) চেয়ে থাক। রক্ত-সম্পর্কের আত্মীয়ের ব্যাপারেও সাবধান থেকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। [(9:111, 16:71, 43:32, 59:9).(14:34) 10:19, 57:25] (6:99) 16:8, 20:50, 21:30, 24:45, 30:20, 31:28, 51:49]
আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ দিয়ে দাও (তোমাদের) খারাপ জিনিসকে (তাদের) ভাল জিনিস দ্বারা বদল করো না এবং তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে তাদের সম্পদ ভোগ করো না; এটা অবশ্যই একটা গুরুতর অপরাধ-মহাপাপ। [ 33:5; 4:127]
আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, এতীমদের ব্যাপারে তোমরা ইনসাফ বা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে তোমরা বিয়ে কর (এতিমদের বিধবা মা অথবা প্রাপ্তবয়স্ক এতিম) নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ-ইনসাফ করতে পারবে না (এতিম সন্তানসহ বিধবা মায়েদের প্রতি) তবে মাত্র একজন অথবা তোমাদের ডান হাত (শপথের মাধ্যমে) যার মালিক হয়েছে (তাদের মধ্য থেকে)। এটা তোমাদের জুলুম-অবিচার না করার নিকটতর । [একের অধিক বিয়ে অসম্ভব=৪:১২৯] 4:127–129]
আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও,তবে তারা যদি খুশিমনে তোমাদেরকে তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয় তাহলে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে তৃপ্তির সঙ্গে ভোগ কর।
আর তোমরা অবুঝ-নির্বোধ-অল্প-বুদ্ধিসম্পন্ন (এতিম) দের হাতে ধনসম্পত্তি ছেড়ে দিও না, যা দিয়ে আল্লাহ্ তোমাদের দিন গুজরানের ব্যবস্থা করেছেন, তা থেকে তাদের অন্ন-বস্ত্র-খাওয়াপরা ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করো; তাদের সাথে ন্যায়সংগত কথা বলবে।
আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে পরীক্ষা কর যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে অর্থাৎ বিবাহযোগ্য হয়। সুতরাং যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিচার-বুদ্ধি বিবেকের পরিপক্কতার জ্ঞান দেখতে পাও, তবে তাদের ধন-সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দাও। ইয়াতীমের ধন-সম্পদ অপব্যয়-অপচয় করনা, তারা বড় হয়ে যাবে বলে তাদের ধন-সম্পদ তাড়াতাড়ি খেয়ে শেষ করে ফেলো না। যে (অভিভাবক) ধনী সে যেন (এতিমের সম্পদ খরচ করা থেকে) বিরত থাকে। আর যে গরীব সে (তার শ্রমের জন্য) ন্যায়ভাবে (ন্যায্য পরিমাণ) খেতে পারে। অতঃপর তোমরা যখন তাদেরকে তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দেবে তখন সাক্ষী রেখো। আর (জেনে রেখো) হিসেব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। [বিবাহ ও পরিণত বয়স 12:22; 24:59; 28:14; 46:15; 2:282; 4:21]
পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত-রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, (রেখে যাওয়া সম্পত্তি) তা অল্পই হোক আর বেশিই হোক না কেন, তাতে তাদের অংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। [4:12]
(সম্পত্তি) বন্টনকালে যদি নিকটাত্মীয়-স্বজন এবং ইয়াতীম ও অভাবগ্রস্ত-গরীবরা উপস্থিত হয়, তাহলে তোমরা তাদেরকে তা থেকে কিছু দিয়ে দেবে এবং তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত উত্তম কথা বলবে।
তারা নিজেরা পেছনে অসহায় ছেলেমেয়ে রেখে (মারা) গেলে তাদের জন্য যেমন ভয় করত, (সম্পত্তি বন্টনকালে) তারা (বন্টনকারীরা) যেন অন্তরে তেমন ভয় রাখে। অতএব, তারা যেন আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক হয় এবং সঠিক ন্যায়সঙ্গত কথা বলে। [33:70]
নিশ্চয়ই যারা ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায় তারা তো তাদের পেটে আগুনই খাচ্ছে; তারা শীঘ্রই জ্বলন্ত আগুনে-অগ্নি শিখায় জ্বলবে।
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকারের) ব্যাপারে আদেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; কিন্তু শুধু কন্যা দুইয়ের বেশি থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেক। তার সন্তান থাকলে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ; সে নিঃসন্তান হলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য তিন ভাগের এক ভাগ; তার ভাই-বোন থাকলে মাতার জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ ; তার কোন অসিয়ত থাকলে তা পূরণ কিংবা কোন ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করার পরে। তোমাদের পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে উপকারের দিক থেকে কে তোমাদের নিকটতর তা তোমরা জান না। এসব অংশ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত/ফরজ। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক পাবে, যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে; আর তাদের সন্তান থাকলে তোমরা তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির চার ভাগের একভাগ পাবে, তাদের কোন অসিয়ত থাকলে তা পূরণ কিংবা কোন ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করার পরে। আর তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির চার ভাগের একভাগ পাবে যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে; আর তোমাদের সন্তান থাকলে তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির আট ভাগের একভাগ পাবে, তোমাদের কোন অসিয়ত থাকলে তা পূরণ কিংবা কোন ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করার পরে। আর যে লোকটির অথবা স্ত্রীলোকটির উত্তরাধিকার বন্টন করা হবে (অর্থাৎ মৃতব্যক্তি) সে যদি নিঃসন্তান ও পিতৃমাতৃহীন হয় এবং তার একজন (বৈপিত্রেয়) ভাই কিংবা একজন (বৈপিত্রেয়) বোন থাকে তাহলে তাদের প্রত্যেকে ছয় ভাগের একভাগ পাবে। আর যদি তাদের সংখ্যা এর চেয়ে অধিক হয় তাহলে তারা তিন ভাগের একভাগে (সবাই সমান) অংশীদার হবে, কোন অসিয়ত থাকলে তা পূরণ কিংবা কোন ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করার পরে, যাতে কারো কোন ক্ষতি না হয়। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সহনশীল। [ 2:219, 2:180, 2:240, 4:8]
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের (কুরআনের) অনুগত হবে আল্লাহ তাদেরকে এমনসব জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যাতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আর এটাই বিরাট মহাসাফল্য।
আর যে আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহক রাসূলের (কুরআনের) নাফরমানী করবে এবং (বর্ণিত আদেশ নিষেধের) সীমারেখা লঙ্ঘন করবে আল্লাহ তাকে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব-লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করবে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করবে। তারা যদি সাক্ষ্য দেয় তাহলে ঐ নারীদেরকে ঘরে আবদ্ধ রাখবে যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য (অন্য) কোন পথ নির্দেশ করেন। [17:32, 4:24–25 ;12:26; 4:24, 5:32, 13:24, 17:32, 38:52, 69:21, 89:27]
তোমাদের মধ্যে যে দুজন (নর-নারী) ঐ কাজ (ব্যভিচার) করবে তাদেরকে তোমরা শাস্তি দেবে । তারপর তারা যদি তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয় তাহলে তাদেরকে তাদের মত থাকতে দিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী,পরম দয়ালু।
বস্তুত আল্লাহর কাছে তাদেরই তওবার সুযোগ রয়েছে যারা অজ্ঞতাবশত পাপ/মন্দ/নোংরা কাজ করে, তারপর শীঘ্রই তওবা করে ফিরে আসে। এরাই তারা, যাদের তাওবাহ্ আল্লাহ কবুল করেন । আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
আর তাওবা নাই তাদের, যারা সারাজীবন অন্যায়-পাপ-জুলুম করতেই থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়, তখন বলে, “আমি এখন তওবা করলাম;” তাদেরও (তওবার সুযোগ) নেই যারা (আয়াত অস্বীকারকারী/উপেক্ষাকারী/গোপনকারী/বিক্রীকারী হয়ে) কাফের অবস্থায় মারা যায়। এসব লোকদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক আযাব-বেদনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। [9:80,85; 3:90,91; 4:48,116,137,168; 31:13]
হে ঈমানদারগণ!তোমাদের জন্য এটা হালাল নয় যে, তোমরা জোর-জবরদস্তি করে যে কোন স্ত্রীলোকদের উত্তরাধিকারী সেজে বসবে, কিংবা বল প্রয়োগ করে কোন মেয়েদেরকে আটক বা অবরুদ্ধ করে রাখবে, যাতে তোমরা ফিরিয়ে নিতে বা আত্মসাৎ করতে পারবে, যা কিছু তোমরা তাদেরকে (মোহরানা বা উপহারস্বরূপ) দিয়েছো। তবে তারা যদি প্রকাশ্যে অশ্লীলতায় অর্থাৎ ব্যাভিচারে লিপ্ত হয় (এবং ৪জন স্বাক্ষী উপস্থিত হয়) সে কথা ভিন্ন। তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, আর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক মঙ্গল-বহু কল্যাণ রেখেছেন।
আর তোমরা যদি এক স্ত্রীর জায়গায় অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির কর এবং তাদের একজনকে (মোহরানা বা উপহারস্বরূপ) অনেক অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই ফেরত নিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং সুষ্পষ্ট পাপ করে তা (ফেরত) নিতে চাচ্ছ?
তোমরা তা কীভাবে (ফেরত) নিতে পার,অথচ তোমরা একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয়েছ; আর তারাও তোমাদের কাছ থেকে নিয়েছিলো (ভালোবাসা ও মমতাভরা বিবাহ বন্ধনের) শক্ত অঙ্গীকার ।
যে নারীদেরকে তোমাদের বাবারা (বাবা, দাদা, নানা) বিয়ে করেছে তোমরা তাদেরকে বিয়ে করবে না; তবে পূর্বে যা হয়ে গিয়েছে (তা ভিন্ন কথা)। অবশ্যই এটা ছিল একটা অশ্লীল, অত্যন্ত ঘৃণিত এবং নিকৃষ্ট-জঘণ্য পন্থা।
যাদেরকে বিয়ে করা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-হারাম করা হয়েছে তারা হল: তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমরা যেসব স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছ সেসব স্ত্রীর পূর্বের স্বামী থেকে যেসব কন্যা তোমাদের কোলে রয়েছে তাদেরকে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা মিলিত না হয়ে থাকো, তবে (তাদের বদলে তাদের কন্যাদের বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’ বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, আগে যা হয়েছে, হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু।
এবং নারীদের মধ্যে বিবাহিতগণ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-হারাম করা হয়েছে; তবে তোমাদের ডান হাত ( শপথের মাধ্যমে) যাদের মালিক হয়েছে তারা ছাড়া। এটি তোমাদের উপর আল্লাহর ফরজ বিধান। তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের ছাড়া অন্যান্য সকল নারীদেরকে মোহরের অর্থের বিনিময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে, তবে অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য নয়। অতএব, এদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমরা (বিয়ের পর) যৌন সম্ভোগ করবে তাদেরকে তাদের নির্ধারিত পাওনা (মোহরানা) দিয়ে দেবে। (মোহরানা) নির্ধারণের পর পারস্পরিক সম্মতিতে কোন হ্রাস-বৃদ্ধি করলে তাতে তোমাদের কোন পাপ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। [60:10; 17:32)]
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির সচ্চরিত্রা-মুমিনা নারীদেরকে বিবাহ করার আর্থিক সামর্থ্য নেই,সে তার শপথের মাধ্যমে অধিকারভুক্ত মুমিনা যুবতীকে বিয়ে করবে। আর আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে বেশ ভালভাবেই জানেন। নিজেদের মধ্যে তোমরা তো একে-অপরের অংশ (সমান)। তাই তাদের পরিবার পরিজনের অনুমতি নিয়ে তাদেরকে বিয়ে করবে এবং যথাযথভাবে তাদের পাওনা (মোহরানা) পরিশোধ করবে, যদি তারা সচ্চরিত্রা/সতী-সাধ্বী হয় এবং ব্যভিচারিণী কিংবা উপপতি/গোপন যৌনসঙ্গী — গ্রহণকারিণী না হয়। আর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তারা যদি ব্যভিচার করে তাহলে তাদের শাস্তি সচ্চরিত্রা-মুমিনা নারীদের শাস্তির অর্ধেক। এ ব্যবস্থা তার জন্য তোমাদের যে ব্যক্তি (অবিবাহিত থাকার কারণে) ব্যভিচারের ভয় করে। (তাড়াহুরা করে বিয়ে না করে) ধৈর্য ধারণ করা তোমাদের পক্ষে উত্তম-কল্যাণকর এবং আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [17:70]
আল্লাহ তোমাদের জন্য পরিষ্কার করে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সুন্নত/নিয়ম-নীতি বিস্তারিত বর্ণনা করে হেদায়েতের পথ দেখিয়ে দিতে চান। তোমাদের তাওবা অর্থাৎ ফিরে-আসা কবুল করতে চান । আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আর আল্লাহ চান তোমাদের তাওবা/অনুশোচনা কবুল করতে। কিন্তু যারা কামনা-বাসনা/খেয়াল- খুশি/প্রবৃত্তির আনুগত্য করে তারা চায় যে, তোমরা যেন (পথভ্রষ্টতার দিকে) ভীষণভাবে ঝুঁকে পড়।
আল্লাহ তোমাদের (ভারি) বোঝা হালকা করতে চান। মানুষকে তো দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। [7:17, 25:28–29]
তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনো! তোমরা একে অপরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা–বাণিজ্য হলে ভিন্ন কথা। আর নিজেরা খুনোখুনি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। [2:275, 53:39; 2:188, 26:181]
আর যে কেউ সীমালংঘন-বাড়াবাড়ি করবে এবং জুলুম-অত্যাচার করবে, তাকে আমি অতিসত্বর অগ্নিতে দগ্ধ করবো এবং আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজসাধ্য।
তোমাদেরকে যা যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে বড়গুলো থেকে যদি তোমরা দূরে থাক তাহলে আমি তোমাদের (ছোট ছোট) পাপগুলো মুছে দেব এবং তোমাদেরকে একটি মহৎ জায়গায় (জান্নাতে) স্থান দেব এবং তোমাদেরকে এক মহামর্যাদার স্থানে প্রবেশ করাব।
যে সব জিনিস দ্বারা আল্লাহ তোমাদের একজনকে আরেকজনের ওপর সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন তোমরা তার লোভ, লালসা করোনা। পুরুষ যা অর্জন করবে সে তার অংশ (ফল) পাবে এবং নারী যা অর্জন করবে সেও তার অংশ পাবে। তোমরা আল্লাহরই কাছে সম্মান ও মর্যাদা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী। [4:34, 28:77]
পিতামাতা ও আত্মীয়দের রেখে যাওয়া সবকিছুর জন্য আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেছি। আর যাদের সাথে তোমাদের অঙ্গীকার/চুক্তি রয়েছে, তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুরই সাক্ষী থাকেন। [4:11–12-176]
পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধানকারী ও ভরণপোষণকারী কারণ আল্লাহ তাদের একজনকে আরেকজনের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন এবং তারা (পুরুষেরা) তাদের (কষ্টার্জিত) সম্পদ থেকে (নারীদের জন্য) ব্যয় করে থাকে।এজন্যই পুণ্যবতী নারীরা (স্বামীদের) অনুগত হয় এবং (তাদের) অনুপস্থিতিতেও আল্লাহ যা রক্ষা করতে বলেছেন তা (নিজেদের সতীত্ব, স্বামীদের সম্পত্তি ইত্যাদি) রক্ষা করে। আর যে নারীদের মধ্যে তোমরা বিদ্রোহ/বাজে আচরণ/দূর্ব্যবহারের শঙ্কা করো তাদেরকে নসিহাত/উপদেশ দাও, শয্যাতে দূরে থাকো এবং তাদেরকে ট্যুরে/ভ্রমণে/ঘুরতে নিয়ে যাও ।এতে যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোন পথ/বাহানা খুঁজো না।নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত মহান। [2:259, 58:11 (4:128 (2:231, 3:66; (8:11, 43:5; (13:17, 16:74, 36:13, 43:58) (43:5 [দরাবা=ট্যুর/ভ্রমণ 3:156; 4:101; 5:106; 73:20; 2:273] [নুশুয=বাজে আচরণ/দূর্ব্যবহার 4:128]
আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা কর তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিস এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে।তারা যদি দুজনের মধ্যে সংশোধন/আপোষ-মীমাংসা করে দিতে চায়, তাহলে আল্লাহ তাদের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা/ মিলসাধন/মিটমাট করার তাওফিক দান করবেন।, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু জানেন, সকল কিছুর খবর রাখেন। [2:228–234, 4:3, 4:19, 4:35, 4:128, 33:49, 58:1 65:1–4]
তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না।মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত/দরিদ্র, কাছের প্রতিবেশি, দূরের প্রতিবেশি,ঘনিষ্ঠ সহচর/সঙ্গী-সাথী,মুসাফির/পথিক, শপথের মাধ্যমে তোমাদের অধিকারভুক্তদের সাথে দারুন/সুন্দর/চমৎকার ব্যবহার করবে।নিশ্চয়ই আল্লাহ বেয়াদব/বেত্তমিজ ও অহংকারীকে ভালবাসেন না।
যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ শ্রেষ্ঠত্ব/মর্যাদা থেকে তাদেরকে যে (নিয়ামাত) দিয়েছেন তা গোপন করে ঐসব গোপনকারী কাফেরদের জন্য আমি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি ।
(আর সেসব লোককেও আল্লাহ ভালোবাসেন না) যারা মানুষকে দেখানোর জন্য নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে এবং আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে না। আর শয়তান যার সঙ্গী হয়, (তাকে সে পথভ্রষ্ট করবেই, কারণ) সঙ্গী হিসেবে সে কতইনা নিকৃষ্ট/জঘন্য ? [50:23]
মানুষের এমন কী ক্ষতি হত যদি তারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনত, আর আল্লাহ তাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করত? আল্লাহ তাদের সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই জানেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলুম করেন না । আর যদি (কারো) কোন পুণ্য থাকে তাহলে তিনি তা বহুগুন বাড়িয়ে দেবেন এবং নিজের পক্ষ থেকেও বিরাট/মহা পুরস্কার দান করবেন।
সুতরাং তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য হতে এক একজনকে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকেও হাজির করব তাদের উপর সাক্ষ্য দানের জন্য। [10:46,47; 2:143]
যারা কুফরি করেছে এবং রসূলের অবাধ্য হয়েছে তারা সেদিন কামনা করবে,হায়! তারা যদি আর্দের সাথে মিশে যেত। আর তারা আল্লাহর কাছে কোন হাদিসই লুকিয়ে রাখতে পারবে না। [ [হাদিস;-45:6; 39:23; 77:50; 68:44; 79:15]
তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনো! মোহগ্রস্থ/যন্ত্রণাগ্রস্থ/নেশাগ্রস্থ হয়ে সংযোগের সান্নিধ্যে যেওনা/আত্মীয়-স্বজনের সান্নিধ্যে যেওনা; যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার।তবে কর্তব্য থেকে দূরে থেকোনা। তবে যে ব্যক্তি উপদেশ/শিক্ষা নেওয়ার পথে থাকবে তার কথা ভিন্ন। আর তোমরা যদি অসুস্থ কিংবা ভ্রমণে থাক, অথবা তোমাদের মধ্যে হতে কেউ টয়লেট করে আসে, অথবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করো, তখন যদি পানি না পাও, তাহলে ভালো মাটি দ্বারা পরিষ্কার করে নিবে, এছাড়া নিজেদের মুখমন্ডল ও হাত দুটো মুছে নিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল । [কারিব=আত্মীয়-স্বজন/সান্নিধ্য/নৈকট্য/কাছাকাছি 2:180,215,237; 3:167; 4:7,11,33,135; 9:99; 3:45; 7:114] জুনুব= কর্তব্য/দূরে থাকো 4:36; 39:56; 28:11; 92:17; 14:35; 16:36 আবরা- শিক্ষা 3:13; 12:111; 16:66; 23:21; 24:44; 79:26 ছাখরা=যন্ত্রণা (50:10) মোহগ্রস্থ/নেশাগ্রস্থ-22:2; 15:15,72; 16:67 ] [তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনো! মোহগ্রস্থ/যন্ত্রণাগ্রস্থ/নেশাগ্রস্থ হয়ে সংযোগের সান্নিধ্যে যেওনা/আত্মীয়-স্বজনের সান্নিধ্যে যেওনা; যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার। শিক্ষা গ্রহনের পথে থেকেও তোমরা দূরে থাকো/বিরত হও।যদি তোমরা রোগাক্রান্ত হও গোসল করো/ক্ষত থেকে রস বের হয়/চিকিৎসা করাও। স্ত্রীদের সাথে মিশে অনুসন্ধান করো। উর্ধে ওঠার সংকল্প করো। কিতাবের উপরে থাকো।[ কারিব=আত্মীয়-স্বজন/সান্নিধ্য/নৈকট্য/কাছাকাছি 2:180,215,237; 3:167; 4:7,11,33,135; 9:99; 3:45; 7:114]
তুমি কি সেই লোকেদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যাদেরকে কিতাবের অংশ দেয়া হয়েছিল? তারা নিজেরা পথভ্রষ্টতা ক্রয় করছে আর চাচ্ছে যে, তোমরাও পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।
আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে খুব ভাল করেই জানেন। আর অভিভাবক/অলি হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
হেদায়েতের দাবিদার ইয়াহূদীদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কালামসমূহকে তার স্থান থেকে পরিবর্তন করে ফেলে এবং বলে, ‘আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম’। এবং শোনে না শোনার মতো;আর নিজেদের জিহবা বাঁকা করে এবং দীনের প্রতি খোঁচা মেরে/উপহাস করে/ তাচ্ছিল্য করে বলে, “রা’ইনা (আমাদের রাখাল)”। কিন্তু তারা যদি বলত, ‘শুনলাম ও মান্য করলাম এবং শুনুন ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’, তাহলে তা তাদের জন্য উত্তম/কল্যাণকর ও যথার্থ/সঠিক হত।কিন্তু তাদের কুফরী/অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা‘নত/অভিসম্পাত করেছেন। ফলে তাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া ঈমান আনবে না।
হে কিতাবধারীগণ! তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে আমি যা নাযিল করেছি তাতে তোমরা ঈমান আন, ঐ সময় আসার পূর্বে,যখন আমি অনেক মুখমন্ডল বিকৃত করে দিব।তারপর সেগুলোকে পিছনের দিকে উল্টিয়ে দিব অথবা (আরাম আয়েশী) আস্হাবুস্ সাব্তকে (শনিবারওয়ালাদেরকে/ (শনিবার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অমান্য করে শাস্তিপ্রাপ্তদেরকে)) যেরূপ লা’নত করেছিলাম সেরূপ তাদেরকে লা’নত/অভিসম্পাত করার আগে। আর আল্লাহ্র আদেশ কার্যকরী হয়েই থাকে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করার পাপকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না। এটা ছাড়া অন্যান্য পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেন। আর যে আল্লাহর ( আইন,কিতাব ও সত্বার) সাথে শরীক করে সে নিঃসন্দেহে এক মহাপাপ রচনা করে।
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা নিজদেরকে পরিশুদ্ধ/নিষ্পাপ মনে করে? বরং আল্লাহ্ই যাকে ইচ্ছে পরিশুদ্ধ/নিষ্পাপ করেন। আর তাদের উপর বিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবে না।
দেখ, তারা (গায়রে মাতলু ওহি নাম দিয়ে) কীভাবে আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে! প্রকাশ্য পাপ হিসেবে এটাই যথেষ্ট।
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—
—